Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

জ্বালানি সংকটে হাঁসফাঁস জনজীবন: ডিপোতে তেল নেই, আন্তর্জাতিক নৌরুটেও দুশ্চিন্তা

BNJK
29 August 2026, 02:04 AM পড়তে ১ মিনিট
জ্বালানি সংকটে হাঁসফাঁস জনজীবন: ডিপোতে তেল নেই, আন্তর্জাতিক নৌরুটেও দুশ্চিন্তা

 দেশের জ্বালানি তেলের বাজার যেন এক গোলকধাঁধায় আটকে গেছে। একদিকে পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি আর মানুষের হাহাকার, অন্যদিকে তেলের প্রধান সরবরাহ কেন্দ্র বা ডিপোগুলোতে দেখা দিয়েছে বিশাল ঘাটতি। এমনকি বিশ্ববাজার থেকে তেল আসার অন্যতম পথ হরমুজ প্রণালিও (পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী সরু নৌরুট) এখন একপ্রকার বন্ধ। সব মিলিয়ে এক কঠিন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে দেশের জ্বালানি খাত।

ডিপোতে ঘাটতি ও পাম্পে দীর্ঘ সারি রাজধানীর সড়কগুলোতে যানবাহনের চাকা ঘোরার চেয়ে তেলের পাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে থাকাই যেন এখন বড় নিয়তি। রাজধানীর বিজয় সরণি থেকে মহাখালী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে তেলের জন্য অপেক্ষমাণ গাড়ির লাইন। ছুটির দিনেও এই চিত্র বদলায়নি। পুলিশের এক গোপন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য; দেশের ১৫টি প্রধান ডিপোতে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ জ্বালানি তেলের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহে এই টান সবচেয়ে বেশি। যদিও তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর দাবি, ঘাটতি অতটা নয়, তবে মজুতদারি রুখতে তারা ১৫ থেকে ২০ শতাংশ তেল কম সরবরাহ করছেন।

সরকারি ভাষ্য বনাম বাস্তব চিত্র সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি মন্ত্রী দাবি করেছেন যে দেশে কোনো সংকট নেই এবং গত বছরের তুলনায় সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নথিপত্র বলছে ভিন্ন কথা। গত বছরের এই সময়ের তুলনায় ডিজেল ও পেট্রোল বিক্রি বরং কমেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এই অস্থিতিশীলতার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ হুড়োহুড়ি করে তেল কেনা শুরু করলে তৈরি হয় এক কৃত্রিম সংকট। সরকার পাম্প পর্যায়ে রেশনিং (সীমিত বণ্টন) তুলে নিলেও ডিপো পর্যায়ে অঘোষিতভাবে তেল আটকে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

হরমুজ প্রণালিতে আটকা বাংলাদেশের জাহাজ দেশের অভ্যন্তরে সংকটের পাশাপাশি বাইরের খবরও সুখকর নয়। বাংলাদেশের জন্য জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহনকারী দুটি বড় জাহাজ এখন সমুদ্রের মাঝপথে আটকা। হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি না পাওয়ায় ‘নরডিক পোলাক্স’ ও ‘এমভি লিব্রেথা’ বন্দরে ভিড়তে পারছে না। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ও আন্তর্জাতিক জলসীমায় দাঁড়িয়ে অনুমতির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। এই জাহাজগুলো সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে দেশের জ্বালানি মজুত পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়ে উঠতে পারে।

কালোবাজারি ও জনদুর্ভোগ জ্বালানি সংকটের সুযোগ নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কালোবাজারি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নওগাঁ ও জয়পুরহাটে নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে তেল বিক্রির খবর পাওয়া গেছে। নারায়ণগঞ্জে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ডিজেল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে পর্যটন খাতেও। যাতায়াত খরচ বেড়ে যাওয়ায় কুয়াকাটার মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের আনাগোনা কমে গেছে, যার ফলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

তদন্ত ও ভবিষ্যৎ মজুত পরিস্থিতি বর্তমানে দেশে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের যে মজুত রয়েছে, তা দিয়ে বড়জোর এক মাস চলা সম্ভব। কিন্তু যে হারে সরবরাহ কমছে, তাতে এই মজুত কতদিন টিকবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে তারা মেপে মেপে তেল বাজারে ছাড়ছেন। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—এই ‘মেপে চলা’ আর কতদিন? কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে তেলের সরবরাহ?

সংকটের মূলে কি কেবল যুদ্ধ না কি অব্যবস্থাপনা? আন্তর্জাতিক যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা আসতেই পারে, কিন্তু একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য ৪০ শতাংশ ঘাটতি এক বিশাল অশনিসংকেত। সরকারের পক্ষ থেকে সংকটের কথা অস্বীকার করা হলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। সরবরাহ চেইনের প্রতিটি স্তরে তদারকি বাড়ানো না হলে এবং কৃত্রিম চাহিদা নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই সংকট সাধারণ মানুষের পকেট কাটার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকেও পঙ্গু করে দিতে পারে। সময় এসেছে বিকল্প জ্বালানি ও আপদকালীন মজুত ব্যবস্থা নিয়ে আরও গুরুত্ব সহকারে ভাবার।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
অর্থনীতি

জ্বালানি সংকটে হাঁসফাঁস জনজীবন: ডিপোতে তেল নেই, আন্তর্জাতিক নৌরুটেও দুশ্চিন্তা

B
BNJK | 11 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার