আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা শিশুদের হামের টিকাদান কর্মসূচি হঠাৎ বন্ধ করার সিদ্ধান্তকে ‘ফৌজদারি অবহেলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এক আইনজীবী। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিটি গঠন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সংশ্লিষ্টদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বাংলাদেশে হামের টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে সম্প্রতি এই সফল কর্মসূচিটিকে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে সরিয়ে বেসরকারি খাতে ন্যস্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এই সিদ্ধান্তের কারণেই দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গত কয়েক দিনে শতাধিক শিশু প্রাণ হারিয়েছে এবং আক্রান্ত অগণিত শিশু দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় একটি রিট আবেদন দায়ের করেছেন। রিটে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খান, নূরজাহান বেগম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সব সদস্যকে বিবাদী করা হয়েছে। একই সাথে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
রিটকারী আইনজীবী জানান, বিষয়টি নিয়ে গত ৬ এপ্রিল সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নোটিশে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে হামের টিকা কর্মসূচি বাতিলের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন এবং অভিযুক্তদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছেন।
রিটে স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, জনস্বাস্থ্যের মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে এমন অশুভ ও অপরাধমূলক সিদ্ধান্ত সাধারণ জনগণের জীবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেছে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
একটি জনস্বাস্থ্যমূলক কর্মসূচি, যা দশকের পর দশক ধরে কোটি শিশুর জীবন রক্ষায় ঢাল হিসেবে কাজ করেছে, তা হঠাৎ পরিবর্তন করা কতটা যৌক্তিক ছিল—সেই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। টিকাদান কর্মসূচির মতো স্পর্শকাতর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের খামখেয়ালি বা ব্যবসায়িক স্বার্থের প্রভাব থাকলে তা দেশের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত। আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য নিয়ে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্তের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।