Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

নিলামের মাধ্যমে আরও আড়াই কোটি ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক: বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বাড়ানোর তোড়জোড়

Roksana
29 August 2026, 02:11 AM পড়তে ১ মিনিট
নিলামের মাধ্যমে আরও আড়াই কোটি ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক: বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বাড়ানোর তোড়জোড়

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবং জাতীয় রিজার্ভ বা সঞ্চয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে আবারও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার নিলামের মাধ্যমে আড়াই কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হিসেবে পরিচিত বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে আরও শক্তিশালী ও সুসংহত করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার (১৩ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ২৫ মিলিয়ন বা ২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে। এর মাধ্যমে বাজারের অতিরিক্ত ডলার যেমন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাণ্ডারে জমা হচ্ছে, তেমনি মুদ্রার বিনিময় হারকেও একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বুধবার এই ডলার ক্রয়ের তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দেশের দুটি বাণিজ্যিক ব্যাংক এই নিলামে অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করেছে। এবারের নিলামে প্রতি ডলারের জন্য ‘কাট-অফ মূল্য’ (নিলামে যে সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ দরে চূড়ান্ত লেনদেন হয়) নির্ধারিত হয়েছে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। অর্থাৎ, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে এই নির্দিষ্ট দরেই ডলার সংগ্রহ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বর্তমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শুরু থেকেই ডলার সংগ্রহের এই ধারা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, কেবল চলতি মে মাসেই এ পর্যন্ত বেশ কয়েক দফায় নিলামের আয়োজন করা হয়েছে এবং সেখান থেকে মোট ১৭ কোটি বা ১৭০ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে দেখলে, চলমান অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক সব মিলিয়ে ৫৮৪ কোটি ৩৫ লাখ ডলার বা ৫ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার বাজার থেকে সংগ্রহ করেছে।

এই ডলার সংগ্রহের বিষয়টি দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ধরে ডলারের সংকটে ভোগার পর এখন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ডলারের সরবরাহ বাড়ছে। ব্যাংকগুলোর কাছে যখন চাহিদার চেয়ে বেশি ডলার জমা থাকে, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা কিনে নেয়। এতে করে দুটি বড় সুবিধা পাওয়া যায়। প্রথমত, বাজারে টাকার সরবরাহ বাড়ে, যা ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট (নগদ টাকার অভাব) দূর করতে সহায়তা করে। দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা সঞ্চয় আরও সমৃদ্ধ হয়, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশের সক্ষমতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমদানির দায় মেটানো এবং বিদেশের ঋণ পরিশোধের জন্য একটি দেশের হাতে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা থাকা অপরিহার্য। গত কয়েক বছর ধরে ডলারের উচ্চমূল্য ও সংকটের কারণে দেশের আমদানি বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হয়েছিল এবং এর ফলে সাধারণ মানুষের নিত্যপণ্যের দামও বেড়ে গিয়েছিল। তবে এখন নিয়মিতভাবে ডলার ক্রয়ের মাধ্যমে রিজার্ভ পুনর্গঠন করার এই উদ্যোগ আগামী দিনগুলোতে মূল্যস্ফীতি বা পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ডলারের বিনিময় হার স্বাভাবিক রাখতে এবং বাজারকে কোনো অসাধু চক্রের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত রাখতে তারা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছেন। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে রেমিট্যান্স বা প্রবাসীদের পাঠানো আয় এবং রপ্তানি আয়ের প্রবাহ বাড়লে বাজারে ডলারের যোগান বাড়ে। সেই বাড়তি যোগান বা তারল্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনার জন্যই এই নিলাম পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া হয়।

এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে হয়েছে যাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আমদানির এলসি (ঋণপত্র) খুলতে পারে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি কিছুটা পাল্টেছে। ব্যাংকগুলো নিজেই এখন ডলার বিক্রির অবস্থানে এসেছে, যা নির্দেশ করে যে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে। তবে এই স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে রপ্তানি আয় বাড়ানো এবং প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বৈধ পথে আনার প্রক্রিয়া আরও সহজ করার ওপর জোর দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।


বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ডলার ক্রয়ের সিদ্ধান্তটি মূলত রিজার্ভকে আগের শক্তিশালী অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়ার একটি কৌশলী প্রয়াস। তবে ডলার কেনায় যে বড় অংকের টাকা বাজারে প্রবেশ করছে, তা যেন নতুন করে মূল্যস্ফীতিকে উসকে না দেয়, সেদিকেও কড়া নজর রাখা প্রয়োজন। রিজার্ভ বাড়লে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ে, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, কেবল ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়ানোই সমাধান নয়; বরং টেকসই রপ্তানি বৃদ্ধি এবং আমদানিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনই হতে পারে আমাদের অর্থনীতির স্থায়ী সুরক্ষা কবচ।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
অর্থনীতি

নিলামের মাধ্যমে আরও আড়াই কোটি ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক: বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বাড়ানোর তোড়জোড়

R
Roksana | 13 May 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার