দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অধিক মুনাফার আশায় অবৈধভাবে মজুত করে রাখা এক হাজার ২০০ লিটার পেট্রোল উদ্ধার করেছে প্রশাসন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই যৌথ অভিযানে জ্বালানি তেল জব্দ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দোকান মালিককে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
দিনাজপুরের পার্বতীপুর শহরে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে শহরের গুলপাড়া মহল্লায় উপজেলা প্রশাসন ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৩) এক যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে একটি দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ পেট্রোল উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১৩ নীলফামারী ক্যাম্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকায় অবৈধ জ্বালানি ব্যবসার খবর পাচ্ছিলেন। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে হুগলীপাড়া মহল্লার বাসিন্দা আনোয়ারুল হকের ছেলে রায়হানুল ইসলামের দোকানে হানা দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। তল্লাশিকালে দোকানের ভেতরে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা পাঁচটি বড় ড্রাম এবং পাঁচটি ছোট জারকিন ভর্তি পেট্রোল পাওয়া যায়। পরিমাপ শেষে দেখা যায়, সেখানে মোট এক হাজার ২০০ লিটার জ্বালানি তেল মজুত করা হয়েছিল।
অভিযান পরিচালনাকারী পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাদ্দাম হোসেন জানান, অভিযুক্ত রায়হানুল ইসলাম কোনো বৈধ লাইসেন্স বা অনুমতি ছাড়াই এই বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থ জনবহুল এলাকায় মজুত করেছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে চড়া দামে বাজারে বিক্রির অসৎ উদ্দেশ্যে তিনি এই অবৈধ মজুত গড়ে তুলেছিলেন।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী অপরাধ স্বীকার করায় রায়হানুল ইসলামকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে জব্দকৃত পেট্রোলগুলো প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এই ধরনের অবৈধ মজুত জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে, কারণ বসতবাড়ি বা জনবহুল এলাকায় পেট্রোল মজুত রাখলে যে কোনো সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে।
ইউএনও আরও হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন যে, বর্তমানে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং কৃত্তিম সংকট রোধে এই ধরনের ঝটিকা অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। কোনোভাবেই সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অসাধু উপায়ে মুনাফা অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
আমাদের সমাজে অসাধু ব্যবসায়ীদের কৃত্তিম সংকট তৈরির প্রবণতা নতুন কিছু নয়। সামান্য লাভের আশায় জননিরাপত্তাকে তুচ্ছ জ্ঞান করে দাহ্য পদার্থ মজুত রাখা শুধু আইনত অপরাধ নয়, বরং নৈতিকভাবেও চরম অনৈতিক। প্রশাসনের এই তৎপরতা প্রশংসনীয় হলেও জরিমানার পরিমাণ অপরাধের তুলনায় যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন জাগতে পারে। বাজার নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি।