দেশের দক্ষ ও নিষ্ঠাবান প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান আর নেই। শুক্রবার ভোরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে প্রশাসনিক অঙ্গনে গভীর শোক নেমে এসেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমানের মৃত্যুতে দেশের প্রশাসনিক কাঠামোয় এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার ভোর ৬টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। সরকারের উচ্চপদস্থ এই কর্মকর্তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন।
পারিবারিক ও দাপ্তরিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। রক্ত পরীক্ষায় তার প্লাটিলেট (রক্তের জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় অণুচক্রিকা) অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরবর্তী সময়ে নিবিড় শারীরিক পরীক্ষায় চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন যে তিনি ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
মাহবুবুর রহমান ছিলেন বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) ১৩তম ব্যাচের শুল্ক ও আবগারি ক্যাডারের একজন অত্যন্ত দক্ষ কর্মকর্তা। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দেশের প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি তার মেধা ও দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছেন। সবশেষ ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। মাত্র এক বছরের মাথায় তার এই চলে যাওয়া মন্ত্রণালয়ের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক ও বিনয়ী মানুষ। তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলায়। মঠবাড়িয়ার কৃতি এই সন্তানের মৃত্যুতে তার নিজ এলাকায় এবং সহকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া বিষয়ে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন আকস্মিক প্রয়াণ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জীবন কতটা অনিশ্চিত। বিশেষ করে ম্যালেরিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হয়ে একজন সচিব পদমর্যাদার ব্যক্তির মৃত্যু জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো করে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের হাল ধরা এই মানুষটির কর্মনিষ্ঠা ও অবদান দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্য প্রসারে স্মরনীয় হয়ে থাকবে। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।