Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফেরাতে কঠোর সরকার: একীভূত হলো ৫ ইসলামী ব্যাংক, আমানতের বিমা দ্বিগুণ

Roksana
29 August 2026, 02:04 AM পড়তে ১ মিনিট
ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফেরাতে কঠোর সরকার: একীভূত হলো ৫ ইসলামী ব্যাংক, আমানতের বিমা দ্বিগুণ

দেশের টালমাটাল ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে চরম সংকটে থাকা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে গঠন করা হয়েছে নতুন একটি ব্যাংক, সেই সঙ্গে সাধারণ গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে আমানতের বিমা বা নিরাপত্তা তহবিলের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে।


মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যাংকিং খাতের সংস্কার নিয়ে সরকারের এসব কঠোর ও বহুমুখী পদক্ষেপের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। ব্যাংকিং খাতকে খাদের কিনারা থেকে তুলে এনে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতে সরকার কী কী বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একটি সুসংগঠিত কাঠামোগত পরিবর্তনের রূপরেখা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যাংক খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে 'ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬' (ব্যাংক পুনর্গঠন আইন) কার্যকর করা হয়েছে। এই আইনের আইনি ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করেই দেশের পাঁচটি সমস্যাপীড়িত ও দুর্বল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে মিলিয়ে 'সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি' নামে নতুন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে, যা ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।

পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহক ও আমানতকারীদের মনে স্বস্তি ফেরাতে 'আমানত সুরক্ষা আইন ২০২৬'-এর মাধ্যমে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই আইনের আওতায় কোনো ব্যাংক আর্থিক সংকটে পড়লে বা দেউলিয়া হলে গ্রাহকদের সুরক্ষিত আমানতের পরিমাণ আগের এক লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে এখন সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এতদিন অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রাহকরা এই সুরক্ষার বাইরে থাকলেও, বর্তমান আইনে তাদেরও এর অন্তর্ভুক্ত করে আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

খেলাপি ঋণের পাহাড় কমানো ও ঋণশৃঙ্খলা ফেরানোর বিষয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ খেলাপি হচ্ছেন, তাদের শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিশেষ পরিপত্র জারি করা হয়েছে। খুব শিগগিরই এসব ইচ্ছাকৃত খেলাপির নামের তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। এছাড়া, দেশের সম্পদ যেন গুটিকয়েক মানুষের হাতে কুক্ষিগত না হয়, সেজন্য একজন নির্দিষ্ট গ্রাহক পুরো ব্যাংকিং খাত থেকে সর্বোচ্চ কত টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন, তার একটি সুনির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বড় অঙ্কের অর্থায়নের ক্ষেত্রেও এসেছে নতুন নিয়ম। এক হাজার কোটি টাকার বেশি বিশাল অঙ্কের ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর ওপর একক চাপ কমাতে ঋণপত্র (বন্ড) ছাড়ার মাধ্যমে বাজার থেকে তহবিল সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, প্রভাবশালী খেলাপি গ্রাহকরা যেন উচ্চ আদালতে আইনি স্থগিতাদেশ (রিট) এনে ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়া বছরের পর বছর আটকে দিতে না পারেন, সেজন্য রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ঋণ আদায়ের আইনি প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে অর্থ ঋণ আদালতের বিচারক প্যানেল বা জুরি বোর্ডে এবার অভিজ্ঞ ব্যাংকারদের যুক্ত করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আটকে পড়া সম্পদ উদ্ধারের জন্য বেসরকারি খাতে 'সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি' প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। ঋণখেলাপিদের শাস্তির পাশাপাশি, দেশে একটি উন্নত ঋণ সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে যারা নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেন, সেসব ভালো গ্রাহকদের চিহ্নিত করে বিশেষ প্রণোদনা বা সুবিধা দেওয়ার নীতিমালাও হালনাগাদ করছে সরকার।

এছাড়াও, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রতিটি ব্যাংককে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের মোট খেলাপি ঋণের অন্তত এক শতাংশ নগদে আদায় করার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিটি ব্যাংকের শীর্ষ বিশজন খেলাপির কাছ থেকে ঋণ আদায়ের অগ্রগতি নিয়মিত যাচাই করা হচ্ছে এবং যেসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার দশ শতাংশের বেশি, তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে বিশেষ তদারকি দল গঠন করা হয়েছে।


দীর্ঘদিন ধরে দেশের ব্যাংকিং খাতে যে অরাজকতা, অনিয়ম ও আস্থার সংকট চলছিল, সরকারের এই বহুমুখী পদক্ষেপগুলো তা নিরসনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশেষ করে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে একীভূত করা এবং আমানতের সুরক্ষা সীমা বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্তগুলো সাধারণ গ্রাহকদের মনে কিছুটা হলেও নির্ভরতা ফেরাবে। তবে শুধু আইন প্রণয়ন বা নীতিমালা করাই যথেষ্ট নয়, এর কঠোর ও নিরপেক্ষ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই এখন সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ। ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং আদালতের দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনার যে প্রতিশ্রুতি অর্থমন্ত্রী দিয়েছেন, তা যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে দেশের আর্থিক খাতের চেহারাই পাল্টে যাবে। এখন সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই—এই উদ্যোগগুলো কি সত্যিই ব্যাংকিং খাতের পুরনো ক্ষত সারিয়ে তুলতে পারবে, নাকি প্রভাবশালীদের চাপে আগের মতোই কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে?

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
অর্থনীতি

ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফেরাতে কঠোর সরকার: একীভূত হলো ৫ ইসলামী ব্যাংক, আমানতের বিমা দ্বিগুণ

R
Roksana | 09 June 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার