Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

বিশাল বাজেটের অর্থের জোগান দিতে রাজস্ব আদায়ে কঠোর সরকার: নজর ভ্যাট ও ব্যাংক লেনদেনে

Roksana
29 August 2026, 02:08 AM পড়তে ১ মিনিট
বিশাল বাজেটের অর্থের জোগান দিতে রাজস্ব আদায়ে কঠোর সরকার: নজর ভ্যাট ও ব্যাংক লেনদেনে

আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার এক বিশাল ও উচ্চাভিলাষী বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। এই বিপুল অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে কর ও মূল্য সংযোজন কর আদায়ে বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। বিলাসবহুল গাড়ি থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদের ব্যাংক লেনদেনেও এবার বসানো হচ্ছে কড়া নজরদারি।


আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বিশাল আকারের বাজেট প্রস্তাব করতে যাচ্ছে সরকার। নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, উন্নয়ন খাতের ব্যয় বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বাড়াতেই বাজেটের এই আকার বাড়ানো হচ্ছে। আগের অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে বাজেট বাড়ছে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। তবে এই বিশাল বাজেটের অর্থ জোগাড় করা, বিদেশি ঋণের চাপ সামলানো এবং নিত্যপণ্যের দাম (মূল্যস্ফীতি) নিয়ন্ত্রণ করাই এখন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এই বিপুল অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে কর ও মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট (পণ্যের ওপর আরোপিত বিশেষ কর) আদায়ে ব্যাপক সংস্কার এবং এর আওতা বাড়ানোর কঠোর উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এরই অংশ হিসেবে দেশের ৪৬৫টি ব্যবসায়ী ও বাণিজ্য সংগঠনের কাছে তাদের সদস্য প্রতিষ্ঠানের তালিকা চাওয়া হয়েছে। এই তালিকার মাধ্যমে লক্ষাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

বর্তমানে দেশে প্রায় আট লাখ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত থাকলেও নিয়মিত আয়-ব্যয়ের বিবরণী জমা দেয় মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ প্রতিষ্ঠান। আগামী এক বছরের মধ্যে এই নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২০ লাখে উন্নীত করার এক বিশাল লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরে শুধু ভ্যাট থেকেই তিন লাখ কোটি টাকার বেশি আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের, যা গতবারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেশি।

তবে রাজস্ব বোর্ডের এই পদক্ষেপ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন জানান, তারা এরই মধ্যে সদস্যদের তালিকা জমা দিয়েছেন। তবে তিনি মনে করেন, শুধু সংগঠনের তালিকা ধরে করের আওতায় আনার প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি যৌক্তিক নয়। কারণ, দেশের কোটি কোটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সবাই কোনো না কোনো সংগঠনের সদস্য নন। তিনি কাঠামোগত ব্যবস্থার মাধ্যমে হয়রানিমুক্ত পরিবেশে কর আদায়ের জোর দাবি জানান।

প্রায় একই সুরে কথা বলেন বাংলাদেশ-চীন শিল্প ও বাণিজ্য চেম্বারের সভাপতি মোহা. খোরশেদ আলম। তিনি দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি কর দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধের ওপর জোর দেন। তিনি মনে করেন, ব্যবসায়ে লাভ হলে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর দেবে, কিন্তু লোকসানের সময় যেন তাদের অহেতুক আইনি জটিলতায় পড়তে না হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।

সাধারণ ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বিলাসবহুল গাড়ির মালিকদের ওপরও নজরদারি বাড়াচ্ছে সরকার। সাড়ে তিন হাজার ইঞ্জিন ক্ষমতার (সিসি) বেশি গাড়ির জন্য আগে দুই লাখ টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হতো, আগামী বাজেটে তা বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা করা হতে পারে। একাধিক গাড়ি থাকলে এই করের পরিমাণ জ্যামিতিক হারে বাড়বে। সম্প্রতি রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা শাখা পাঁচ হাজারের বেশি বিলাসবহুল গাড়ির নথিপত্র যাচাই করে অন্তত এক হাজার গাড়ির ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের কর ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে। এই তালিকায় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অনেক নামিদামি ব্র্যান্ডের গাড়ি রয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশ মাশুলের পরিবর্তে নতুন করে সম্পদ কর আরোপের চিন্তাভাবনাও করছে সরকার।

কর আদায়ে আরেকটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে ব্যাংক লেনদেনের ওপর সরাসরি নজরদারি। রাজস্ব বোর্ডের প্রধান সম্প্রতি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (বাংলাদেশ ব্যাংক) সঙ্গে তাদের তথ্যপ্রযুক্তির নিবিড় সমন্বয় করা হচ্ছে। এর ফলে করদাতাদের ব্যাংক লেনদেন, আয়-ব্যয় এবং বছর শেষের জমানো অর্থের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর নথিতে যুক্ত হয়ে যাবে। এতে ভুয়া নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং লেনদেন গোপনের প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কড়াকড়ির পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের স্বস্তি দিতে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি স্থিতিশীল করকাঠামো ঘোষণার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। এছাড়া কর ফেরত পাওয়ার (রিফান্ড) ক্ষেত্রেও আসছে বড় পরিবর্তন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই সংক্রান্ত আবেদন ১২০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে এবং অনুমোদনের ৬০ দিনের মধ্যে করদাতার ব্যাংক হিসাবে সরাসরি সেই অর্থ পাঠিয়ে দেওয়া হবে।


বিশাল বাজেটের অর্থ সংস্থানে সরকারের এই কঠোর অবস্থান বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় হয়তো সময়ের দাবি, কিন্তু এর বাস্তবায়ন মোটেও সহজ কোনো কাজ নয়। করের আওতা বাড়াতে গিয়ে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা যেন কোনোভাবেই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কড়া নজর রাখতে হবে। পাশাপাশি, ব্যাংক লেনদেনে নজরদারির বিষয়টি সাধারণ সঞ্চয়কারীদের মনে যেন কোনো ভীতির সঞ্চার না করে এবং ব্যাংক খাত থেকে মানুষ যেন মুখ ফিরিয়ে না নেয়, সেই আস্থার জায়গাটুকু নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি। সর্বোপরি, কেবল কর আদায় বাড়ানোই নয়, সাধারণ জনগণের ঘামঝরানো এই অর্থের সঠিক, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলেই এই বিশাল বাজেট দেশের অর্থনীতিতে সত্যিকারের প্রাণের সঞ্চার করতে পারবে।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
অর্থনীতি

বিশাল বাজেটের অর্থের জোগান দিতে রাজস্ব আদায়ে কঠোর সরকার: নজর ভ্যাট ও ব্যাংক লেনদেনে

R
Roksana | 24 May 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার