Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

ভোজ্যতেল ও মুরগির বাজারে অস্থিরতা: আকাশছোঁয়া সবজির দামে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

BNJK
29 August 2026, 02:08 AM পড়তে ১ মিনিট
ভোজ্যতেল ও মুরগির বাজারে অস্থিরতা: আকাশছোঁয়া সবজির দামে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

 রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে নিত্যপণ্যের দামের উত্তাপ কিছুতেই কমছে না। ভোজ্যতেল ও মুরগির বাজারে মাসখানেক ধরে চলা অস্থিরতার সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে চিনির মূল্যবৃদ্ধি, আর সবজির বাজার বরাবরের মতোই সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

 রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মহাখালী ও আগারগাঁওসহ বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামই সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে। খুচরা পর্যায়ে খোলা সয়াবিন তেলের লিটার এখন ১৯২ থেকে ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা মাসখানেক আগেও ছিল ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা। একইভাবে পাম তেলের (এক ধরনের ভোজ্যতেল) দাম লিটারে প্রায় ১৫ টাকা বেড়ে ১৮৪ থেকে ১৮৫ টাকায় ঠেকেছে। যদিও সরকার নির্ধারিত দাম এর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু বাজারে সেই দরের কোনো প্রতিফলন নেই। এমনকি বেশি লাভে বিক্রির আশায় অনেক বিক্রেতা বোতলজাত তেল খুলে খোলা অবস্থায় বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

চিনির বাজারেও নতুন করে অস্বস্তি শুরু হয়েছে। এক মাস আগে যে চিনি ৯৫ থেকে ১০০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে ১১০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। মিষ্টি জাতীয় এই পণ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

আমিষের বাজারেও স্বস্তি নেই। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি জাতের মুরগি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায় স্থিতু হয়ে আছে। মুরগির এই চড়া দামের প্রভাবে গরুর মাংসের বাজারও উত্তপ্ত। এক মাসের ব্যবধানে কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে গরুর মাংস এখন ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ডিমের ডজন ১১০ টাকা থাকলেও গতকাল তা ১০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকায় ঠেকেছে।

সবজির বাজার যেন আগুনের গোল্লা। পটল, বেগুন কিংবা ঝিঙা—অধিকাংশ সবজিই এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ঢ্যাঁড়শ ৬০ থেকে ৭০ টাকা হলেও চিচিঙ্গা, ধুন্দুল ও বরবটি কিনতে ক্রেতাকে কেজিতে গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকা পর্যন্ত। আলুর দাম কিছুটা সহনীয় থাকলেও অধিকাংশ সবজির দাম ৭০ টাকার নিচে নামছে না। তবে কিছুটা ব্যতিক্রম দেখা গেছে কাঁচামরিচের ক্ষেত্রে; প্রতি কেজি মরিচ এখন ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

বাজার তদারকির অভাবকে দায়ী করে ক্রেতারা বলছেন, প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

নিত্যপণ্যের বাজারের এই লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। উৎসব বা বিশেষ কোনো কারণ ছাড়াও যেভাবে সিন্ডিকেট (ব্যবসায়ীদের গোপন আঁতাত) করে দাম বাড়ানো হচ্ছে, তাতে স্বল্প আয়ের মানুষের পাতে দুমুঠো অন্ন জোগানোই কঠিন হয়ে পড়ছে। কেবল অভিযান বা জরিমানা নয়, সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে না পারলে বাজারের এই আগুন নেভানো সম্ভব হবে না।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
অর্থনীতি

ভোজ্যতেল ও মুরগির বাজারে অস্থিরতা: আকাশছোঁয়া সবজির দামে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

B
BNJK | 16 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার