Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

ভ্যাট রিটার্নে আসছে বড় পরিবর্তন

Roksana
29 August 2026, 02:07 AM পড়তে ১ মিনিট
ভ্যাট রিটার্নে আসছে বড় পরিবর্তন

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, উদ্যোক্তাদের হয়রানি কমানো এবং কর ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব করতে মূল্য সংযোজন কর বা মূসক (যাকে ব্যাপকভাবে ভ্যাট বলা হয়) ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। প্রতি মাসে হিসাব বিবরণী জমা দেওয়ার দীর্ঘদিনের জটিলতা ও ঝক্কি কমিয়ে এখন থেকে বছরে মাত্র চারবার বা তিন মাস অন্তর তা জমা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এই যুগান্তকারী উদ্যোগ ব্যবসায়ীদের মহামূল্যবান সময় ও অর্থ বাঁচানোর পাশাপাশি রাজস্ব খাতে এক অভাবনীয় স্বচ্ছতা আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।


দীর্ঘদিন ধরেই দেশের ব্যবসায়ী সমাজের একটি বড় অভিযোগ ছিল কর জমা দেওয়ার জটিল, পুরোনো ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া নিয়ে। বিশেষ করে দেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হিসেবে পরিচিত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য প্রতি মাসে হিসাব মেলানো এবং তা জমা দেওয়া ছিল এক বিশাল ঝক্কির কাজ। অনেক সময় এই জটিল প্রক্রিয়ার ভয়ে নতুন উদ্যোক্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবসার খাতায় নাম লেখাতে চাইতেন না। ব্যবসায়ীদের এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে এবং রাজস্ব আদায় ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব করতে এবার বড় ধরনের সংস্কারের পথে জোরালো কদমে হাঁটছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে মূসক ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন ও ছাড় দেওয়া হচ্ছে। নতুন নিয়মে ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বরধারী (যাকে সংক্ষেপে বিআইএন বলা হয়) প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রতি মাসে করের হিসাব বিবরণী জমা দেওয়ার যে কঠোর বাধ্যবাধকতা ছিল, তা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হচ্ছে। এর বদলে এখন থেকে প্রতি তিন মাস পরপর, অর্থাৎ বছরে মাত্র চারবার এই বিবরণী জমা দিলেই চলবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই সংস্কারের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, বর্তমান নিয়মে প্রতি মাসের কেনাবেচার হিসাব পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে জমা দিতে হয়। এই প্রচলিত মাসিক ব্যবস্থাটি অনেক ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীর জন্য একটি বড় মানসিক ও আর্থিক চাপের কারণ। নিয়মিত হিসাবের খাতা নির্ভুলভাবে ঠিক রাখা এবং নির্ধারিত সময়ে তা দপ্তরে জমা দেওয়ার কারণে অনেক উদ্যোক্তাই এই কর ব্যবস্থাকে এক ধরনের হয়রানি বলে মনে করেন। আমরা এমন একটি ব্যবস্থা চালু করতে চাই, যেখানে ব্যবসায়ীরা হাসিমুখে এবং কোনো ভয় ছাড়াই করের আওতাভুক্ত হতে পারবেন। নতুন এই ত্রৈমাসিক (তিন মাস অন্তর) ব্যবস্থা চালু হলে ব্যবসায়ীদের এই ভীতি কেটে যাবে এবং তারা স্বেচ্ছায় নিয়ম পালন করে নিবন্ধিত হতে আগ্রহী হবেন।

এই সংস্কারের আরেকটি সবচেয়ে বড় দিক হলো সম্পূর্ণ কর প্রশাসনকে স্বয়ংক্রিয় বা তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর করে তোলা। আগামীতে হিসাব বিবরণী জমা দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি হবে সরাসরি ইন্টারনেটভিত্তিক। এর ফলে ব্যবসায়ীদের আর নথিপত্রের পাহাড় নিয়ে রাজস্ব কার্যালয়ে দিনের পর দিন দৌড়াতে হবে না।

বিশেষ করে যেসব আধুনিক প্রতিষ্ঠান নিজেদের কেনাবেচা, পণ্য মজুত ও দৈনন্দিন হিসাব রাখতে বিশেষ প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা (যাকে প্রযুক্তির ভাষায় ইআরপি বলা হয়) সফটওয়্যার ব্যবহার করবে, তারা হিসাব নিরীক্ষার (অডিট) ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় ও সুবিধা পাবে। রাজস্ব কর্মকর্তারা সরাসরি ডিজিটাল মাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে এই নিরীক্ষা কাজ শেষ করতে পারবেন। এর ফলে আগের দিনের দীর্ঘ, ক্লান্তিকর এবং অনেক ক্ষেত্রে হয়রানিমূলক কাগজভিত্তিক প্রক্রিয়ার চিরতরে অবসান ঘটবে। এই ব্যবস্থা একদিকে যেমন ব্যবসায়ীদের খরচ কমাবে, অন্যদিকে কর ফাঁকি দেওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়ে রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতাও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

বর্তমানে দেশের রাজস্ব খাতের পরিধি ক্রমশ বড় হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৭ লাখ ৭৫ হাজার মূসক নিবন্ধিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশজুড়ে চালানো এক বিশেষ অভিযানের পর নতুন করে ১ লাখ ৩১ হাজার প্রতিষ্ঠান এই করের খাতায় যুক্ত হয়েছে, যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় একটি বড় সাফল্য। এর আগে এই নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার। তবে রাজস্ব বোর্ডের লক্ষ্য আরও অনেক সুদূরপ্রসারী। আগামী কয়েক অর্থবছরের মধ্যে এই নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২০ লাখে উন্নীত করার এক বিশাল ও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছে সরকার। আর এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে যুক্ত করার জন্যই কর ব্যবস্থাকে এতটা সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতি ও কর বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, বছরে ১২ বারের বদলে চারবার হিসাব জমার এই প্রস্তাবিত সুযোগ দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ সহজ করতে একটি বড় পদক্ষেপ।


যেকোনো দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলো একটি সুস্থ ও হয়রানিমুক্ত ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ। রাজস্ব বোর্ডের এই ত্রৈমাসিক হিসাব জমার সিদ্ধান্তটি নিঃসন্দেহে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর, যা তাদের ব্যবসায়িক প্রসারে সরাসরি ভূমিকা রাখবে। তবে কেবল কাগজে-কলমে নিয়ম সহজ করলেই হবে না, ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যবস্থাগুলো যেন দেশের সাধারণ ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য হয়, সেদিকেও গভীরভাবে নজর দিতে হবে। প্রযুক্তিগত জটিলতায় বা সার্ভার বিভ্রাটে যেন নতুন করে কোনো হয়রানির সৃষ্টি না হয়, সেটি আগে থেকেই নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এই সময়োপযোগী সংস্কারটি যদি মাঠপর্যায়ে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি শুধু সরকারের কোষাগারকেই সমৃদ্ধ করবে না, বরং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কর কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের যে আস্থার সংকট রয়েছে, তা দূর করে একটি স্বনির্ভর ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে সাহায্য করবে।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
অর্থনীতি

ভ্যাট রিটার্নে আসছে বড় পরিবর্তন

R
Roksana | 05 June 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার