Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় লাফ

Roksana
29 August 2026, 02:12 AM পড়তে ১ মিনিট
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় লাফ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম মতবিরোধ দেখা দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের লাফ দেখা গেছে। সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় গত কয়েক দিন ধরে অপরিশোধিত তেলের বাজার রীতিমতো অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য এক নতুন অশনিসংকেত।

 
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১২ মে) বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় তিন শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এদিন অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুডের (যুক্তরাজ্যভিত্তিক বৈশ্বিক তেলের বাজারদর) ভবিষ্যৎ চুক্তিমূল্য ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ৮৫ ডলার বা ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১০৭ দশমিক ৬ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তেলের বাজারদর হিসেবে পরিচিত ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ১৩ ডলার বা ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১০১ দশমিক ২০ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে সোমবারও বিশ্ববাজারের এই দুই প্রধান মানদণ্ডে তেলের দাম প্রায় তিন শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। টানা দুদিন দামের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুরো বিশ্বের অর্থনীতি, বিশেষ করে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তেলের এই হঠাৎ অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পেছনে মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শান্তি চুক্তির ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ায় এই ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'লাইফ সাপোর্ট' বা চরম সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। তার এই মন্তব্যের পর কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া সমুদ্রে কৌশলগত নৌ-অবরোধ এবং যুদ্ধের বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যে গভীর মতবিরোধ তৈরি হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের দারুণভাবে শঙ্কিত করে তুলেছে।

এই সংকটের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা। বিশ্বের মোট উৎপাদিত জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশই সরবরাহ করা হয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথটি দিয়ে। কিন্তু ইরান এই প্রণালির ওপর নিজেদের একচ্ছত্র জাতীয় সার্বভৌমত্ব দাবি করছে এবং সেখানে বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজ চলাচলে নানা ধরনের বিঘ্ন ঘটার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের জোগান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক-এর (অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ) সার্বিক তেল উৎপাদন গত দুই দশকের মধ্যে একেবারে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধের উত্তাপও তেলের বাজারকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। 

চীন ও ইরানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় তেল লেনদেনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে দেওয়া কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ আরও কমে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই বিশ্বের দুই শীর্ষ অর্থনৈতিক পরাশক্তির নেতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ফলাফল কী দাঁড়ায়, সেদিকেও কড়া নজর রাখছেন আন্তর্জাতিক বাজারের বড় বিনিয়োগকারীরা। ওই বৈঠকের ওপর নির্ভর করছে সামনের দিনগুলোতে বিশ্ববাণিজ্যের গতিপ্রকৃতি।

অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, বর্তমান এই ঘোলাটে পরিস্থিতিতে যদি বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে কোনো ধরনের যৌক্তিক শান্তি চুক্তির দিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়, তবে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮ থেকে ১২ ডলার পর্যন্ত কমে আসতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে। কিন্তু উত্তেজনার পারদ যদি আরও বাড়তে থাকে এবং সামরিক সংঘাতের দিকে গড়ায়, তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। তখন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম খুব দ্রুতই ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে এরই মধ্যে অত্যন্ত কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকোর (সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুদ্ধ বা অবরোধের কারণে যদি বিশ্বে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়, তবে তেলের বাজারে পুনরায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে। আর এমনটি ঘটলে প্রতি সপ্তাহে বিশ্ব অর্থনীতি প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেলের ঘাটতির মুখে পড়বে, যা এক নজিরবিহীন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের জন্ম দেবে।


জ্বালানি তেলের বাজার মূলত আধুনিক বিশ্ব অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা এবং পরাশক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াই কেবল তাদের নিজেদের সীমান্তেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর চরম মাশুল গুনতে হয় বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য আমদানিনির্ভর ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর সাধারণ মানুষকে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে অভ্যন্তরীণ পরিবহন, কৃষি উৎপাদন থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বেড়ে যায়। তাই বৈশ্বিক নেতৃবৃন্দের উচিত নিজেদের রাজনৈতিক জেদ ও আধিপত্য বিস্তারের বাসনা দূরে সরিয়ে রেখে দ্রুত একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধানে আসা। নতুবা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এমন এক অমানবিক পর্যায়ে পৌঁছাবে, যা সামাল দেওয়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
অর্থনীতি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় লাফ

R
Roksana | 12 May 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার