Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

মালিকানায় ফিরছেন সাবেক বিতর্কিতরা: সংসদে ‘ব্যাংক রেজুলেশন বিল’ পাস

BNJK
29 August 2026, 02:05 AM পড়তে ১ মিনিট
মালিকানায় ফিরছেন সাবেক বিতর্কিতরা: সংসদে ‘ব্যাংক রেজুলেশন বিল’ পাস

আর্থিক খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে বহুল আলোচিত ‘ব্যাংক রেজুলেশন বিল, ২০২৬’। এই নতুন আইনের ফলে বিপর্যয়ের মুখে পড়া একীভূত পাঁচটি ব্যাংকের মালিকানায় পুনরায় ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন আগের শেয়ারহোল্ডাররা (অংশীদাররা), যা নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

দেশের ব্যাংকিং খাতের সংকট কাটাতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা কঠোর অধ্যাদেশকে শিথিল করে নতুন এই আইনটি পাস করা হয়েছে। এর ফলে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলে ব্যাংক লুটের অভিযোগে অভিযুক্ত বড় বড় শিল্পগোষ্ঠীর জন্য পুনরায় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আইনি পথ প্রশস্ত হলো। বিশেষ করে নাসা গ্রুপ এবং এস আলম গ্রুপের মতো বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানা ফিরে পাওয়ার বাধা এখন অপসারিত হয়েছে।

পাস হওয়া এই আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর ১৮(ক) ধারা। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক যদি পুনর্গঠন বা রেজুলেশন (বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়া) প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়, তবে তার আগের মালিকপক্ষ বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দৃষ্টিতে যোগ্য কোনো গোষ্ঠী পুনরায় ওই ব্যাংকের মালিকানা বা সম্পদ গ্রহণের আবেদন করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে একটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীকে এই মর্মে অঙ্গীকার করতে হবে যে, তারা সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া সমস্ত আর্থিক সহায়তা ফেরত দেবে এবং ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণ করে সব আমানতকারীর পাওনা পরিশোধের নিশ্চয়তা দেবে।

প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নে কিছু কঠোর ধাপের কথা বলা হলেও তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মালিকানা ফিরে পেতে হলে সরকারকে দেওয়া বিনিয়োগের মাত্র ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ অর্থ শুরুতে জমা দিতে হবে। বাকি ৯২ দশমিক ৫০ শতাংশ অর্থ আগামী দুই বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ সরল সুদে পরিশোধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরবর্তী দুই বছর এই কার্যক্রম তদারকি করবে এবং শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে মালিকানা বাতিলের সুযোগ থাকবে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তা এই সিদ্ধান্তকে 'আত্মঘাতী' বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, নামমাত্র অর্থ জমা দিয়ে ব্যাংক দখলের এই সুযোগ আমানতকারীদের বিপুল অর্থকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারে। বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, এটি মূলত অপরাধীদের পুরস্কৃত করার শামিল। যারা ব্যাংক ধ্বংসের জন্য দায়ী, তাদেরই আবার ফেরার সুযোগ দেওয়া জবাবদিহিতার সংস্কৃতির পরিপন্থী।

সংসদে এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, এই আইনের মাধ্যমে কোটি মানুষের আমানতের সুরক্ষাকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে। লুণ্ঠনকারীরা আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এর বিপরীতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আর্থিক খাতের বিশাল ঘাটতি মেটানো সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে সরকার ৮০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে এবং আরও প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। বাজারভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে সচল রাখতেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর জারি করা অধ্যাদেশের অধীনে পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক—এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়েছিল। তৎকালীন সরকারের মদতে এই ব্যাংকগুলো থেকে কয়েক লাখ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

ব্যাংক খাতের সংস্কার যখন সময়ের দাবি, তখন পুনরায় বিতর্কিত মালিকদের হাতে ব্যাংকের চাবি তুলে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত কতটুকু যৌক্তিক, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে গভীর প্রশ্ন জেগেছে। অঙ্গীকারনামা বা তদারকির মাধ্যমে কি আসলেই ব্যাংকগুলোকে নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে? নাকি এটি কেবল পুরোনো লুটেরাদের জন্য নতুন একটি নিরাপদ পথ তৈরি করে দিচ্ছে? আমানতকারীদের আস্থার সংকট কাটাতে রাষ্ট্রকে আরও কঠোর এবং স্বচ্ছ ভূমিকা নিতে হবে।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
অর্থনীতি

মালিকানায় ফিরছেন সাবেক বিতর্কিতরা: সংসদে ‘ব্যাংক রেজুলেশন বিল’ পাস

B
BNJK | 12 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার