Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

Roksana
29 August 2026, 01:52 AM পড়তে ১ মিনিট
রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে পাশবিক নির্যাতন ও হত্যার বহুল আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দেশের বিচারিক ইতিহাসে অন্যতম দ্রুততম সময়ের মধ্যে, অর্থাৎ মাত্র ১৭ দিনের আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা হলো, যা অপরাধ দমনে একটি বড় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

ঢাকার একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে (বিশেষায়িত আদালত) এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন জনাকীর্ণ আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় পড়ে শোনান। রায়ে মূল অপরাধী সোহেল রানাকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অপরাধে সহযোগিতার দায়ে মৃত্যুদণ্ডসহ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

এই সংবেদনশীল মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত পাড়ায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত পুলিশ দল (প্লাটুন) আদালত চত্বরে মোতায়েন ছিল। কড়া পুলিশি পাহারার মধ্যে প্রথমে স্বপ্না আক্তার এবং পরবর্তীতে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পুলিশের ঢাকা মহানগর কার্যালয়ের মামলা পরিচালনা (প্রসিকিউশন) বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ কড়া নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছিল।

হৃদয়বিদারক এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল গত মে মাসের ১৯ তারিখে। পল্লবী এলাকার একটি বহুতল ভবনে নিজ বাসার পাশে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে পাশবিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এই পৈশাচিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠন খুনিদের দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও দ্রুততম সময়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

ঘটনার পরপরই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই সঙ্গে তার সহযোগী স্ত্রীকে আটক করা হয়। ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা বাদী হয়ে মিরপুরের পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে এবং দ্রুত তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহে নামে।

তদন্তকারী দল ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা জামাকাপড়, অন্যান্য সামগ্রী এবং ময়নাতদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে অপরাধবিজ্ঞান সংক্রান্ত ল্যাবরেটরিতে মৃতদেহের ও অপরাধস্থলের বংশাণু (ডিএনএ) পরীক্ষা করা হয়। বিজ্ঞানভিত্তিক এই পরীক্ষাগুলোতে আসামিদের অপরাধের অকাট্য প্রমাণ মেলে। পুলিশ সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া ও অপরাধবিজ্ঞান সংক্রান্ত (ফরেনসিক) প্রতিবেদন হাতে পেয়ে মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করার পর মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু করেন। এরপরের দিন অর্থাৎ ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষের প্রায় সকল গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের মধ্যে শিশুটির মা-বাবা, প্রতিবেশী, তদন্ত কর্মকর্তা ও চিকিৎসকেরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। আসামিরা আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি আইনজীবী (পাবলিক প্রসিকিউটর) আদালতে সমস্ত তথ্য ও প্রমাণ এমনভাবে উপস্থাপন করেন যেখানে অপরাধের পুরো ধারাবাহিকতাটি দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণিত হয়।

রায়ের পূর্বে এক আবেগঘন বক্তব্যে শিশুটির বাবা জানান, তিনি কেবল নিজের মেয়ের হত্যার বিচার চাননি, বরং এমন এক সমাজ চেয়েছিলেন যেখানে কোনো বাবা-মাকে আর তাদের নিষ্পাপ সন্তানকে এভাবে হারাতে না হয়।

 পল্লবীর এই রায় দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সচরাচর আমাদের দেশের জটিল আইনি প্রক্রিয়ায় যেকোনো মামলার রায় পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়, যা অনেক সময় ভুক্তভোগী পরিবারকে হতাশ করে। কিন্তু মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে এই স্পর্শকাতর মামলার নিখুঁত তদন্ত ও চূড়ান্ত রায় প্রমাণ করে যে, সদিচ্ছা ও আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার থাকলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব। তবে কেবল শাস্তির মাধ্যমেই এমন নৃশংস অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না। আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের উন্নয়ন এবং শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
আইন ও বিচার

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

R
Roksana | 07 June 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার