Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

রাশিয়ায় এক লাখ কর্মী পাঠানোর প্রস্তাব বাংলাদেশের: বাণিজ্য ও প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনার আভাস

Roksana
29 August 2026, 02:05 AM পড়তে ১ মিনিট
রাশিয়ায় এক লাখ কর্মী পাঠানোর প্রস্তাব বাংলাদেশের: বাণিজ্য ও প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনার আভাস

ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ দেশ রাশিয়ায় আগামী এক বছরের মধ্যে এক লাখ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর এক যুগান্তকারী প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা। মস্কোয় অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই প্রস্তাব দেওয়া হলে রুশ কর্তৃপক্ষ তাতে বেশ ইতিবাচক সাড়া দেয়। জনশক্তি রপ্তানির পাশাপাশি দেশটিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বাজার সম্প্রসারণেরও এক বিশাল দ্বার উন্মোচিত হতে যাচ্ছে।


বিদেশের শ্রমবাজারে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে এবার রাশিয়ার দিকে বিশেষ নজর দিয়েছে বাংলাদেশ। ঐতিহ্যগতভাবে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নতুন ও সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার খোঁজার অংশ হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে এই যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৮ জুন) রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় অনুষ্ঠিত এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দেশটিতে বিপুল সংখ্যক জনশক্তি রপ্তানির প্রস্তাব তুলে ধরে ঢাকা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয় যে, আগামী এক বছরের মধ্যে রাশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা এক লাখে উন্নীত করা হোক। অত্যন্ত আনন্দের বিষয় হলো, রুশ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের এই দূরদর্শী প্রস্তাবে দারুণ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। পাশাপাশি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সরকারি কার্যক্রম ও আইনি আনুষ্ঠানিকতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম ভূঁইয়া সংবাদমাধ্যমকে এই অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক তথ্য নিশ্চিত করেন। বর্তমানে সুবিশাল আয়তনের দেশটিতে বিভিন্ন পেশায় মাত্র দশ হাজার বাংলাদেশি কর্মী কর্মরত আছেন। এই দশ হাজারের কোটাকে এক লাখে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে তা দেশের প্রবাসী আয়ে এক অভাবনীয় গতি সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন দেশের অর্থনীতিবিদরা। তিন দিনের এই সরকারি সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

জনশক্তি রপ্তানির বিশাল এই সম্ভাবনার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর এই সফরে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন যে, বাংলাদেশ এবং রাশিয়ার মধ্যে যে পরিমাণ বাণিজ্য হওয়ার কথা ছিল, বর্তমান বাণিজ্যের পরিমাণ সেই বিপুল সম্ভাবনার তুলনায় নিতান্তই কম। বিশেষ করে রাশিয়ার বিশাল বাজারে বাংলাদেশের বিশ্বমানের তৈরি পোশাক এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধ রপ্তানি দ্রুত বাড়ানোর দারুণ সুযোগ রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশ থেকে একটি উচ্চপদস্থ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলকে রাশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানাতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে রুশ সরকার। এর ফলে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য সরাসরি রুশ ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের এক অপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে।

বৈঠকের আরেকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিক ছিল অত্যাধুনিক প্রযুক্তির আদান-প্রদান। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় 'কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা' (যৌক্তিক চিন্তাভাবনা ও মানুষের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার প্রযুক্তি) নিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে। ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সফল প্রয়োগের বিষয়ে সরাসরি ধারণা নিতে রাশিয়ার একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেন। চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ রাশিয়া এই প্রস্তাবেও অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের নিজস্ব 'জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতিমালা' প্রণয়ন এবং এই বিষয়ে দেশে একটি আন্তর্জাতিক মানের 'উৎকর্ষ কেন্দ্র' (গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান) প্রতিষ্ঠায় সর্বাত্মক কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতেও গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে মস্কো। এটি বাস্তবায়িত হলে আধুনিক প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো প্রবাসী আয় ও রপ্তানি বাণিজ্য। প্রচলিত শ্রমবাজারের পাশাপাশি রাশিয়ার মতো একটি অর্থনৈতিক ও সামরিক পরাশক্তির দেশে এক লাখ কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়া নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য এক বিশাল মাইলফলক। তবে এই বিপুল সংখ্যক কর্মীকে রাশিয়ায় পাঠানোর আগে সেখানকার তীব্র শীতপ্রধান আবহাওয়া এবং ভাষাগত ভিন্নতার মতো কঠিন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার জন্য কর্মীদের পর্যাপ্ত ও সঠিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা সরকারের জন্য অত্যন্ত জরুরি। একইসঙ্গে তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো খাতে রাশিয়ার সঙ্গে এই নবযাত্রাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে নিজেকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। এখন দেশের আপামর মানুষের অপেক্ষার বিষয়, সরকারি দপ্তরের কাগজপত্রের গণ্ডি পেরিয়ে কতো দ্রুত দুই দেশের এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে আলোর মুখ দেখে।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
অর্থনীতি

রাশিয়ায় এক লাখ কর্মী পাঠানোর প্রস্তাব বাংলাদেশের: বাণিজ্য ও প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনার আভাস

R
Roksana | 09 June 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার