Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা: স্বাস্থ্য ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বড় ছাড়, ধূমপানে কড়াকড়ি

Roksana
29 August 2026, 02:05 AM পড়তে ১ মিনিট
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা: স্বাস্থ্য ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বড় ছাড়, ধূমপানে কড়াকড়ি

দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি, মধ্যবিত্তের স্বস্তি এবং স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আসন্ন জাতীয় বাজেট। আগামী ১১ জুন নতুন সরকারের এই প্রথম বাজেট উপস্থাপিত হতে পারে, যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা উপকরণ এবং তরুণদের ডিজিটাল কর্মসংস্থানে বড় ধরনের নীতিগত ছাড় ও শুল্ক সংস্কারের প্রস্তাব আসতে পারে।


অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন বাজেটে জনস্বাস্থ্যের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ধূমপান নিরুৎসাহিত করতে এবং তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার কমাতে সিগারেটের ফিল্টার তৈরির কাঁচামাল ও নিকোটিন আমদানির ওপর করের হার একলাফে ৩০০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হতে পারে। তামাকের বিপরীতে চিকিৎসাসেবা সুলভ করার জন্য হৃদ্‌রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হার্টের রিং এবং চোখের কৃত্রিম লেন্সে বিদ্যমান ১০ শতাংশ ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হতে পারে। এছাড়া কিডনি ডায়ালাইসিস সেবায় ব্যবহৃত যাবতীয় যন্ত্রপাতি ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক হ্রাস এবং এ খাতে ভ্যাট ও আয়কর অব্যাহতি দেওয়ার মতো দূরদর্শী সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

ডিজিটাল যুগের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের তরুণ প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশেষ ছাড়ের পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাব অনুযায়ী, ফ্রিল্যান্সিং (মুক্তপেশা) ও ইন্টারনেটভিত্তিক ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর (অনলাইন তথ্য ও বিনোদন নির্মাতা) দের জন্য কর ও ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা অব্যাহত রাখা হতে পারে। একই সাথে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের করের বোঝা কমাতে ব্যক্তি পর্যায়ে করমুক্ত আয়সীমা (বার্ষিক আয়ের যে সীমা পর্যন্ত কোনো আয়কর দিতে হয় না) বর্তমানের চেয়ে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করার জোর সম্ভাবনা রয়েছে।

দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ের প্রধান প্রতিষ্ঠান জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর-এর প্রশাসনিক ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও আসছে পরিবর্তন। নতুন নীতিগত কাঠামোর অংশ হিসেবে এনবিআর সরাসরি ইনপুট-আউটপুট কোয়েফিশিয়েন্ট (উপকরণ ও উৎপাদনের আনুপাতিক হার) ঘোষণার ক্ষমতা পেতে পারে। তবে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক বা কর্পোরেট করের হার বর্তমান স্তরেই অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে।

পরিবেশবান্ধব ও সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে আসন্ন বাজেটে বিশেষ শুল্ক প্রণোদনা দেওয়া হতে পারে। বায়ুদূষণ কমাতে ও পরিবেশ সুরক্ষায় বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে শুল্ক কমানো এবং সৌর বিদ্যুতের যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব রাখা হতে পারে। অন্যদিকে, মোটরসাইকেল খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং করের আওতা বাড়াতে ১৫০ সিসির (ইঞ্জিনের ক্ষমতা পরিমাপের একক) বেশি ক্ষমতার মোটরসাইকেল ক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতাদের জন্য টিআইএন (করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর) বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।

নিত্যদিনের বাজার দর নিয়ন্ত্রণে এনে সাধারণ ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে এলাচ, দারুচিনিসহ বিভিন্ন মসলাজাতীয় পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানোর কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। 

রপ্তানি খাতের বিকাশ এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের গতি সচল রাখতে রপ্তানি প্রণোদনার ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব আসতে পারে। এছাড়া কর ফাঁকি রোধে ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে বিআইএন (ব্যবসায়িক শনাক্তকরণ নম্বর) বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসারে বছরে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট বেচাকেনার ওপর টার্নওভার কর (মোট বাৎসরিক বিক্রির ওপর ধার্যকৃত কর) মওকুফ করে একটি সুনির্দিষ্ট ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রয়েছে, যেখানে ব্যবসায়ীরা প্রতি তিন মাস পরপর তাদের ভ্যাট বিবরণী জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

পরিশেষে, দেশের সামগ্রিক আয়কর কাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের অংশ হিসেবে ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে সর্বোচ্চ করের হার ধাপে ধাপে ৩০ শতাংশে এবং পরবর্তী দুই বছরে তা সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার একটি নীতিগত রূপরেখাও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।


২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকার একদিকে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মতো জনকল্যাণমূলক খাতগুলোতে ছাড় দিচ্ছে, অন্যদিকে বিলাসী বা তামাকজাত পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি করে রাজস্ব ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছে। মধ্যবিত্তের করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো এবং মসলাজাতীয় পণ্যের শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত মূল্যস্ফীতির এই কঠিন সময়ে সাধারণ মানুষকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে। তবে কর ব্যবস্থার এই সংস্কার ও শুল্ক ছাড়ের সুফল দেশের সাধারণ মানুষ কতটুকু পাবে, তা নির্ভর করবে বাজার তদারকি এবং বাজেটের সুশৃঙ্খল বাস্তবায়নের ওপর। ডিজিটাল খাতের কর অব্যাহতি ও পরিবেশবান্ধব গাড়ির শুল্ক হ্রাস আমাদের ভবিষ্যৎমুখী অর্থনীতির এক চমৎকার উদাহরণ হতে পারে।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
অর্থনীতি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা: স্বাস্থ্য ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বড় ছাড়, ধূমপানে কড়াকড়ি

R
Roksana | 08 June 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার