Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে বিদেশের আদলে নতুন কাঠামো: সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী

Roksana
29 August 2026, 01:57 AM পড়তে ১ মিনিট
নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে বিদেশের আদলে নতুন কাঠামো: সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী

নিত্যপণ্যের লাগামহীন দাম নিয়ন্ত্রণে ভারত ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সফল বাজার ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই দেশগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে একটি স্থায়ী ও আধুনিক বাজার কাঠামো তৈরির লক্ষে প্রয়োজনীয় গবেষণা শুরু হয়েছে। রোববার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর সরকারের এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।


স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দেশের বাজারে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোতে কীভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হয়, সেই মডেলগুলো বিশ্লেষণ করে একটি আদর্শ ব্যবস্থা তৈরি করা হবে। এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেশের খ্যাতনামা গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে (বিআইডিএস)।

বাজার ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করতে ১৯৫৬ সালের ‘অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন’ (দ্য কন্ট্রোল অব এসেনশিয়াল কমোডিটিজ অ্যাক্ট) যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনটি সংশোধনের মাধ্যমে বাজার কারসাজিকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ভোজ্যতেলের দাম প্রসঙ্গে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য সমন্বয় করা হচ্ছে এবং চলতি বছরে এ পর্যন্ত তিনবার দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজারে তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, রাজধানীতে প্রতিদিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুটি এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে চারটি—অর্থাৎ মোট ছয়টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসনের নেতৃত্বে নিয়মিত বাজার তদারকি এবং জরিমানা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পবিত্র রমজান মাসসহ বিভিন্ন উৎসবের সময় এসব অভিযানের সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়। মাঠ পর্যায়ে বড় আড়ত, হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ) এবং সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সিলেটে পরীক্ষামূলকভাবে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করে একটি ‘কৃষি বাজার’ চালু করার তথ্যও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই পাইলট (পরীক্ষামূলক) প্রকল্পটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এমন বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে সরাসরি উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা যায়। এছাড়া ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে প্রায় এক কোটি পরিবারকে ভর্তুকি মূল্যে চাল, তেল ও ডাল সরবরাহ করে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর বাজারের চাপ কমানোর চেষ্টা চলছে।

বাণিজ্যিক প্রসারের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা হচ্ছে। বর্তমানে ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) রয়েছে, যার আওতায় দুই দেশের নির্দিষ্ট সংখ্যক পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। ভারতের সঙ্গে ১৯৭২ সালের বাণিজ্য চুক্তিটি ২০১৫ সালে নবায়ন করা হয়েছে, যার ফলে তামাক ও মদজাতীয় পণ্য ছাড়া প্রায় সব পণ্যেই ভারত থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ। ভারত থেকে মূলত জ্বালানি, বিদ্যুৎ, খাদ্যশস্য ও শিল্প সরঞ্জাম আমদানি করা হয়, বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, পাট ও প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি হচ্ছে।

রপ্তানি খাতের বৈচিত্র্য নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী অত্যন্ত আশাবাদী কণ্ঠে জানান, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি এখন পাদুকা বা জুতা রপ্তানিতে বিশাল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৪০ হাজার কোটি ডলারের জুতার বাজার রয়েছে। এই বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বাড়াতে ‘চাকরির জন্য রপ্তানি সক্ষমতা’ (এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় পাদুকা শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১১০টি পাদুকা তৈরির কারখানার উন্নয়নে প্রায় ১৩৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ সহায়তা বা অংশীদারিত্বমূলক অনুদান দেওয়া হয়েছে। পণ্যের মান ও নকশা উন্নত করতে গাজীপুরের কাশিমপুরে একটি আধুনিক ‘নকশা ও প্রযুক্তি কেন্দ্র’ (ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টার) স্থাপন করা হচ্ছে।


সরকারের পক্ষ থেকে বাজার নিয়ন্ত্রণে বিদেশের মডেল অনুসরণ বা আইন সংশোধনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে সুফল আনতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক স্বস্তির জন্য প্রয়োজন মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত ও স্বচ্ছ তদারকি। কেবল গবেষণার ওপর নির্ভর না করে সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সিন্ডিকেট বা অসাধু চক্রের প্রভাব দূর করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। পাদুকা শিল্পের প্রসারের মাধ্যমে রপ্তানি আয় বৃদ্ধির যে স্বপ্ন দেখা হচ্ছে, তা বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি বিপুল কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হবে।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
অর্থনীতি

নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে বিদেশের আদলে নতুন কাঠামো: সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী

R
Roksana | 05 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার