Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা বন্ধে উচ্চ আদালতে রিট

Roksana
29 August 2026, 01:58 AM পড়তে ১ মিনিট
পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা বন্ধে উচ্চ আদালতে রিট

বাঙালির বর্ষবরণ উৎসবের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে পরিচিত ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ স্থায়ীভাবে বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে দেশের উচ্চ আদালতে একটি আইনি আবেদন জমা পড়েছে। জনস্বার্থের কথা উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী এই রিটটি দায়ের করেন, যা নিয়ে দেশের সচেতন মহলে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।


রোববার (৫ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান উচ্চ আদালতে এই রিট আবেদনটি দাখিল করেন। এতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকার জেলা প্রশাসক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং চারুকলা অনুষদের অধিকর্তাকে (ডিন) বিবাদী করা হয়েছে। রিট আবেদনে পহেলা বৈশাখের এই বিশেষ আয়োজনটিকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

আবেদনকারী আইনজীবী তার যুক্তিতে উল্লেখ করেছেন যে, মঙ্গল শোভাযাত্রা কোনো প্রাচীন বা শাশ্বত বাঙালি ঐতিহ্য নয়। তার মতে, এটি ১৯৮৯ সালে ‘আন্দোলন’ ও ‘প্রতিবাদ’ হিসেবে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামে শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে সুকৌশলে এর নাম পরিবর্তন করে পহেলা বৈশাখের মূল সংস্কৃতির সঙ্গে একীভূত করা হয়েছে, যা আবেদনকারীর ভাষায় একটি ‘নবসৃষ্ট ও কৃত্রিম’ কার্যক্রম। আবেদনে আরও দাবি করা হয়, এই শোভাযাত্রার মাধ্যমে যে বিশেষ সংস্কৃতি পালন করা হয়, তা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

রিটের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা। আবেদনে বলা হয়েছে, পহেলা বৈশাখের ভোরে বিভিন্ন পশু, পাখি ও মাছের বিশালকৃতির প্রতিকৃতি বহন করে ‘মঙ্গল’ বা ‘কল্যাণ’ প্রার্থনা করা ইসলামের মৌলিক আকিদা ও বিশ্বাসের পরিপন্থী। মুসলিম প্রধান এই দেশে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস হলো, কল্যাণ বা মঙ্গল কেবল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। এই প্রতিকৃতিগুলোর মাধ্যমে শুভ শক্তির প্রার্থনা করা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার পাশাপাশি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং জাতীয় স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য যে, গত শতাব্দীর আশির দশকে তৎকালীন সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে এক প্রকার সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ হিসেবে চারুকলা অনুষদ থেকে এই শোভাযাত্রার সূচনা হয়েছিল। কালের পরিক্রমায় এটি একটি বড় উৎসবে রূপ নেয় এবং ২০১৬ সালে জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো) এটিকে বিশ্বের ‘অস্পৃশ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। তবে শুরু থেকেই দেশের একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এর বিরোধিতা করে আসছিল। বিগত সরকারের পতনের পর এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এই বিরোধিতা নতুন মাত্রা পায়।

চলমান এই টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের বর্ষবরণ উদযাপনে এরই মধ্যে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সভায় পহেলা বৈশাখের এই অনুষ্ঠান থেকে ‘মঙ্গল’ শব্দটি সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং নতুন নামকরণ করা হয় ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। ৩০ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী নববর্ষে এই আনন্দ শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হয়ে রাজু ভাস্কর্য ও দোয়েল চত্বর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চারুকলায় গিয়ে শেষ হবে।

তবে এই নাম পরিবর্তন নিয়ে সরকারি পর্যায়েও ভিন্ন ভিন্ন মত পরিলক্ষিত হয়েছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী গত ৩১ মার্চ এক বক্তব্যে বলেছিলেন যে, মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন ছিল না। তার এই মন্তব্য নিয়েও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতির জটিলতা অনুধাবন করে মন্ত্রী পরবর্তীতে স্পষ্ট করেছেন যে, আসন্ন এই আয়োজনের নাম হবে কেবল ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। মন্ত্রীর এই নতুন নামকরণের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বিষয়টি আদালতের দোরগোড়ায় পৌঁছাল।


একটি জাতির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বিবর্তন সময়ের দাবি। পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব হলেও এর উদযাপন পদ্ধতি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত থাকা স্বাভাবিক। তবে কোনো উৎসব যখন সরাসরি ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায় কিংবা আইনগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, তখন তা জাতীয় ঐক্যের পথে অন্তরায় হতে পারে। মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন বা এটি বন্ধের যে দাবি উঠেছে, তা কেবল একটি আইনি লড়াই নয়, বরং এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার এক বিশাল পরীক্ষা। উচ্চ আদালত এই রিটের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত দেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়; তবে বিতর্কহীন ও সর্বজনীন উৎসব নিশ্চিত করাই হোক আমাদের লক্ষ্য।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
আইন ও বিচার

পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা বন্ধে উচ্চ আদালতে রিট

R
Roksana | 05 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার