দেশের জনপ্রিয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা বাংলাদেশ লিমিটেডের সঙ্গে এক বিশেষ ব্যবসায়িক চুক্তি সম্পাদন করেছে প্রাইম ব্যাংক পিএলসি। এই চুক্তির ফলে এখন থেকে প্রাইম ব্যাংকের গ্রাহকরা আকর্ষণীয় মূল্যে ও বিশেষ সুবিধায় টয়োটার পছন্দের গাড়ি কেনার সুযোগ পাবেন।
সম্প্রতি রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় অবস্থিত টয়োটা বাংলাদেশের কার্যালয়ে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো গ্রাহকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সহজ শর্তে মানসম্পন্ন গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রাইম ব্যাংকের গ্রাহকরা যখন টয়োটা বাংলাদেশের প্রদর্শনী কেন্দ্র থেকে নির্দিষ্ট মডেলের গাড়ি নির্বাচন করবেন, তখন তারা বিশেষ মূল্যছাড়ের পাশাপাশি ব্যাংকের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ে ঋণ সুবিধা (আর্থিক ঋণ সহায়তা) পাবেন। এই অংশীদারিত্বের ফলে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রাইম ব্যাংক পিএলসির পক্ষ থেকে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী সহ-সভাপতি এবং বিতরণ নেটওয়ার্কের প্রধান মামুর আহমেদ। অন্যদিকে, টয়োটা বাংলাদেশ লিমিটেডের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রেম্মিত সিং।
অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন প্রাইম ব্যাংকের উপ-নির্বাহী সহ-সভাপতি ও কার্ড বিভাগের প্রধান জোয়ার্দ্দার তানভীর ফয়সাল। টয়োটা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি উসুকে অগিনো এবং সৈয়দ আসিফুর রহমানসহ অন্যান্য পদস্থ ব্যক্তিবর্গ।
উভয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা মনে করেন, বর্তমান বাজারে নির্ভরযোগ্য বাহনের চাহিদা ক্রমবর্ধমান। জাপানি প্রযুক্তির বিশ্বখ্যাত টয়োটা গাড়ির প্রতি এদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের যে আস্থা রয়েছে, তাকে পুঁজি করেই প্রাইম ব্যাংক এই বিশেষ সেবা চালু করেছে। ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রাহকদের লাইফস্টাইল বা জীবনযাত্রার মানকে আধুনিক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে তারা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন আর্থিক সমাধান নিয়ে কাজ করছেন। এই চুক্তির ফলে কেবল গাড়ি কেনাই সহজ হবে না, বরং বীমা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত কিছু বাড়তি পরামর্শ ও সহায়তাও গ্রাহকরা পেতে পারেন।
করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে চাঙ্গা করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে মধ্যবিত্তের জন্য যখন একটি নতুন গাড়ি কেনা বড় ধরণের আর্থিক চ্যালেঞ্জের বিষয়, তখন ব্যাংকের এমন সহজ ঋণ সুবিধা ও বিশেষ মূল্যছাড় সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করবে। তবে আমদানিকৃত গাড়ির শুল্ক ও ব্যাংকের সুদের হারের সমন্বয় ঠিক থাকলে এই চুক্তির সুফল সাধারণ গ্রাহকরা দীর্ঘমেয়াদে ভোগ করতে পারবেন।